
নাজিম উদ্দীন জনি, শার্শা (বেনাপোল) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলায় টানা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কবলে পড়েছে বোরো ধানের বীজতলা। নিম্ন তাপমাত্রাজনিত ‘কোল্ড ইনজুরি’র কারণে ধানের চারা বিবর্ণ হয়ে হলুদ ও লালচে রঙ ধারণ করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাড়কাঁপানো শীত ও কুয়াশা থেকে বীজতলা রক্ষায় কৃষকরা ছাই ছিটানো, ওষুধ প্রয়োগ ও রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার মতো চেষ্টা চালালেও চারা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় চারার অঙ্কুরোদগম বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কোথাও পাতা গজালেও তা দ্রুত পচে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শার্শায় ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ১ হাজার ১৭৫.৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্য থাকলেও তীব্র শীতের কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি সম্ভব হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২০ দিনের মধ্যে ৫ দিনই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে।
অগ্রভুলোট গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম ও বাগআঁচড়া গ্রামের কবির হোসেন জানান, শীতের তীব্রতায় রোপণের আগেই চারা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। আবদুর রশিদ নামে এক কৃষক জানান, চারা বাঁচাতে রাতে পলিথিন ব্যবহার করলেও শীতের প্রকোপ বাড়লে বীজতলা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, “কিছু এলাকায় শীত ও কুয়াশায় বীজতলার আংশিক ক্ষতি হলেও তা পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। আমরা কৃষকদের নিয়মিত সেচ দেওয়া, সকালে চারা থেকে কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, সালফারজাতীয় ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং রাতে সাদা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি।” তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন এমন থাকলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও উৎপাদন ব্যয় নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
এম.এম/সকালবেলা